নারী কৃষকের স্বীকৃতিই নতুন বাংলার কৃষির শক্তি
অন্নদা: জল-নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও ন্যায্য বাজারসংযোগে এক নতুন উদ্যোগ
কলমে: কল্লোল সাহা | প্রতিষ্ঠাতা-পরিচালক, ডেভেলপমেন্ট কানেক্টস
ভোরে যে নারী ধান রোপণ করেন, সবজিখেত দেখেন, গবাদিপশুর খাবার জোগান, ফসল বিক্রির দরদাম করেন এবং সংসারের কৃষিকাজ সামলান, সরকারি নথিতে ‘কৃষক’ বলতে সব সময় তাঁর নামটি বোঝানো হয় না। অনেক ক্ষেত্রেই জমির দলিলে যার নাম, সুবিধার দরখাস্তেও তার নাম। অথচ মাঠে কে কাজ করছেন, সেচের সিদ্ধান্ত কে নিচ্ছেন, বাজারের ঝুঁকি কে বহন করছেন—এই প্রশ্নগুলির উত্তর আলাদা হতে পারে। তাই নারী কৃষকের স্বীকৃতি শুধু মর্যাদার বিষয় নয়; উৎপাদন বাড়ানো, সরকারি বিনিয়োগের কার্যকারিতা এবং গ্রামীণ অর্থনীতির ন্যায্যতারও প্রশ্ন।
মহারাষ্ট্র সম্প্রতি এই সমস্যার এক গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত উত্তর খুঁজেছে। ২২ জুলাই ২০২৬ রাজ্য গেজেটে প্রকাশিত ‘মহারাষ্ট্র নারী কৃষক ক্ষমতায়ন আইন, ২০২৬’ কৃষিকাজে যুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের স্বীকৃতির ব্যবস্থা করেছে। নিজের নামে জমি না থাকলেও চাষ, বর্গা, কৃষিশ্রম, পশুপালন, মৎস্যচাষ, প্রাথমিক প্রক্রিয়াকরণ-সহ নানা উৎপাদনমূলক কাজের ভিত্তিতে স্বীকৃতি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। গ্রামসভায় যাচাই, নারী কৃষক শংসাপত্র, আপিল, তথ্যভান্ডার, রাজ্য তহবিল ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান গড়ার বিধানও আছে। তবে এই শংসাপত্র জমির মালিকানা বদলায় না, এবং নির্দিষ্ট সরকারি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের শর্ত কার্যকর থাকে। এই সীমারেখা স্পষ্ট রাখা জরুরি।
৭ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত মহারাষ্ট্রে ৩৭,৯৩,০৫১টি আবেদন এবং ৮৯৫টি গ্রাম পঞ্চায়েতে গ্রামসভার সিদ্ধান্তের পরে ৬৮,৪৩৬টি শংসাপত্র দেওয়ার তথ্য সংবাদমাধ্যমে কৃষিমন্ত্রীর বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে। অর্থাৎ ওই দিন পর্যন্ত শংসাপত্রের সংখ্যা মোট আবেদনের প্রায় ১.৮ শতাংশ। কিন্তু এটিকে প্রত্যাখ্যানের হার বলা ভুল হবে; বিপুল আবেদন তখনও বিভিন্ন পর্যায়ে ছিল। এই অভিজ্ঞতা একসঙ্গে দুটি কথা বলে। স্বীকৃতির বাস্তব চাহিদা বিপুল হতে পারে; আবার প্রশাসনিক প্রস্তুতি, যাচাইয়ের ক্ষমতা ও আপিলের ব্যবস্থা না থাকলে মহৎ নীতিও কাগজে আটকে যেতে পারে। মহারাষ্ট্রের উদ্যোগ থেকে শেখার অর্থ তার সাফল্যের সঙ্গে বাস্তবায়নের বাধাগুলিও দেখা।
পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাপট এই আলোচনাকে আরও জরুরি করে তোলে। রাজ্যের কৃষি দপ্তরের হিসাবে ৭১.২৩ লক্ষ কৃষক পরিবার রয়েছে; তার ৯৬ শতাংশ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক, গড় জমির পরিমাণ মাত্র ০.৭৭ হেক্টর। মোট নিট ফসলি এলাকা প্রায় ৫২.০৫ লক্ষ হেক্টর, রাজ্যজুড়ে ফসল নিবিড়তা ১৮৪ শতাংশ। কিন্তু রাজ্যের গড় পরিসংখ্যান দিয়ে সব অঞ্চলের চিত্র বোঝা যায় না। পশ্চিমবঙ্গ ক্ষুদ্র সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের পরিকল্পনাপত্রে প্রায় ১৮.৭ লক্ষ হেক্টর জমি একফসলি বলে চিহ্নিত; তার প্রায় তিন-চতুর্থাংশ পশ্চিমের লালমাটির অঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকায়। অর্থাৎ কৃষি উৎপাদনের সামগ্রিক সক্ষমতা থাকলেও বহু পরিবার বছরের একটি বড় সময় জল, উপযুক্ত ফসল, পুঁজি অথবা ন্যায্য বাজারের অভাবে পিছিয়ে থাকে।
এ রাজ্যে শুরু করার মতো প্রতিষ্ঠান ও অভিজ্ঞতার অভাব নেই। বিশ্বব্যাঙ্কের সহায়তায় পূর্ববর্তী ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্পে প্রায় ৬৭ হাজার হেক্টর সেচসম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং এক লক্ষের বেশি কৃষক উপকৃত হয়েছেন। কিন্তু প্রকল্পের নিজস্ব বিবরণে নারী সুবিধাভোগীর অংশ প্রায় ১৭ শতাংশ। দ্বিতীয় পর্যায়ে জলপ্রাপ্যতা, জলব্যবহারকারী সমিতি ও সেচনির্ভর উৎপাদন নিয়ে কাজ চলছে। অন্যদিকে আনন্দধারার প্রকাশ্য তথ্যফলকে ১,১৬,৭০১ জন ‘মহিলা কিষান’ এবং ৮,৮৩১ জন কমিউনিটি কর্মীর হিসাব রয়েছে। এগুলি নতুন কোনও প্রকল্পের কৃতিত্ব নয়; ইতিমধ্যেই তৈরি সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক মূলধন। নতুন উদ্যোগের কাজ হওয়া উচিত এই ভিত্তিকে যুক্ত করা, ফাঁক পূরণ করা এবং অপ্রয়োজনীয় সমান্তরাল ব্যবস্থার বদলে দায়বদ্ধ সমন্বয় গড়ে তোলা।
এই পটভূমিতে আমি পশ্চিমবঙ্গের জন্য ‘অন্নদা’—নারী কৃষকের জল-নিরাপত্তা, ডিজিটাল কৃষি ও সমন্বিত মূল্যশৃঙ্খল মিশন—গভীরভাবে বিবেচনার প্রস্তাব করছি। ২০২৭ থেকে ২০৩২ পর্যন্ত পাঁচ বছরের প্রাথমিক ধারণায় প্রায় ১,৮৫০ কোটি টাকার সম্ভাব্য বিনিয়োগ, ১ লক্ষ নারী কৃষকের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, প্রায় ৮০ হাজার হেক্টর কর্মক্ষেত্র এবং ১,০০০টি নারী-নেতৃত্বাধীন সেচ ও উৎপাদন ক্লাস্টারের কথা বলা হয়েছে। এগুলি অনুমোদিত বরাদ্দ বা অর্জিত ফল নয়; পরিকল্পনাগত লক্ষ্যমাত্রা। জলসমীক্ষা, জেলা পর্যায়ে আলোচনা, সামাজিক ও পরিবেশগত সুরক্ষা, বাজার যাচাই এবং আর্থিক মূল্যায়ন ছাড়া এগুলিকে চূড়ান্ত ঘোষণা করা উচিত নয়।
অন্নদার প্রথম কাজ হওয়া উচিত প্রকৃত নারী কৃষককে চিহ্নিত করার একটি স্বচ্ছ পদ্ধতি। কার নামে জমি আছে শুধু তা নয়, বাস্তবে কে চাষ করেন এবং উৎপাদনের দায়িত্ব নেন, সেটিও নথিভুক্ত করতে হবে। রাজ্য চাইলে প্রথমে প্রকল্পভিত্তিক যোগ্যতার পরিচয়পত্র দিয়ে শুরু করতে পারে; প্রয়োজনীয় আইনগত পরিবর্তন পরে যথাযথ পর্যালোচনার ভিত্তিতে বিবেচিত হতে পারে। গ্রামসভা, পঞ্চায়েত, আনন্দধারার সংগঠন এবং কৃষি বিভাগের প্রশিক্ষিত কর্মীদের অংশগ্রহণে যাচাই ও আপিলের ব্যবস্থা রাখতে হবে। বর্গাচাষি, বিধবা কৃষক, মৎস্যজীবী নারী বা পশুপালনে যুক্ত নারীর কাজ অদৃশ্য থাকা চলবে না। একই সঙ্গে এই স্বীকৃতিকে জমির মালিকানা, উত্তরাধিকার বা দখলস্বত্ব পরিবর্তনের দলিল হিসেবে দেখানো যাবে না।
দ্বিতীয় প্রয়োজন নির্ভরযোগ্য এবং ন্যায্য জলপ্রাপ্যতা। পশ্চিমের শুষ্ক লালমাটির এলাকায় জলাধার মেরামত, ক্ষুদ্র সঞ্চয়, ভূগর্ভস্থ জলের বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন ও জলবিভাজিকা পরিকল্পনা প্রাসঙ্গিক হতে পারে। উপকূলে নিষ্কাশন, লবণাক্ততা, মৌসুমি জলসঞ্চয় ও জলের গুণমান আলাদা গুরুত্ব পাবে। সব জেলায় একই সৌর পাম্প, ড্রিপ বা সেচকাঠামো বসানো বিজ্ঞানের কাজ নয়। আগে স্থানীয় জলবাজেট, তারপর প্রযুক্তি নির্বাচন; নির্মাণের আগেই রক্ষণাবেক্ষণ, ব্যয় এবং কার কত জল পাওয়ার অধিকার তা নির্দিষ্ট করতে হবে। অংশগ্রহণকারী জলব্যবহারকারী সমিতির পরিচালন পদে অন্তত অর্ধেক নারী এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত পদে তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া অন্নদার প্রস্তাবিত মানদণ্ড।
কিন্তু সেচের জল বাড়লেই আয় বাড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই। সবজি উৎপাদন বেড়েও চাষি লোকসানে পড়তে পারেন, যদি সময়মতো সংগ্রহ, বাছাই, সংরক্ষণ ও পরিবহণ না হয়। তাই প্রতিটি ক্লাস্টারের জন্য জল, ফসল, প্রক্রিয়াকরণ, উৎপাদক দল ও বাজারের একত্র ব্যবসায়িক পরিকল্পনা দরকার। যেখানে উপযুক্ত সেখানে মৎস্য, পশুপালন, নার্সারি ও ক্ষুদ্র যন্ত্র পরিষেবাও যুক্ত হবে। নারী উৎপাদক দল ও কৃষক উৎপাদক সংস্থা দর কষাকষির ক্ষমতা বাড়াতে পারে; তবে প্রকৃত লাভ নির্ভর করবে স্বচ্ছ হিসাব, গুণমান, প্রতিযোগিতামূলক ক্রেতা এবং সময়মতো মূল্য পাওয়ার উপর। কতগুলি দল গঠিত হল তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল সব খরচ বাদ দিয়ে নারী কৃষকের হাতে কত টাকা থাকল।
ডিজিটাল কৃষি কাজে লাগবে তখনই, যখন তা মাঠের সিদ্ধান্ত সহজ করবে। অন্নদার প্রাথমিক পরিকল্পনায় ১ লক্ষ অংশগ্রহণকারীকে ব্যবহারিক ডিজিটাল প্রশিক্ষণ, ২০ হাজার নারীকে উন্নত প্রশিক্ষণ এবং প্রায় ৫ হাজার নারীকে কৃষিসখী, জলব্যবস্থাপক, প্রযুক্তিকর্মী ও বাজার-সমন্বয়কারীর ভূমিকায় গড়ে তোলার লক্ষ্য আছে। প্রস্তাবিত ‘অন্নদা লাইভ’ ব্যবস্থায় সেচ, ফসলের সময়সূচি, সম্ভাব্য ফলন, বাজারদর, ক্রেতার চাহিদা ও বিক্রির হিসাব একসঙ্গে দেখা যেতে পারে। কিন্তু স্মার্টফোন বা ইন্টারনেট না থাকলে কোনও নারীকে বাদ দেওয়া চলবে না। স্থানীয় ভাষায় সহায়তা, যৌথ যন্ত্র ব্যবহার, অফলাইন পরিষেবা, সম্মতিনির্ভর তথ্য সংগ্রহ এবং তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা অপরিহার্য।
এই কর্মসূচির সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ফল আকর্ষণীয়, তবে তাকে প্রমাণ ছাড়া সাফল্য বলা উচিত নয়। অন্নদার ধারণাপত্রে বার্ষিক নিট কৃষিআয় ৩৫–৫০ শতাংশ বাড়ানোর একটি প্রাথমিক লক্ষ্য আছে। যদি পরিণত পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী ১ লক্ষ পরিবারের প্রত্যেকের বার্ষিক নিট আয় অতিরিক্ত ৩৫,০০০–৫০,০০০ টাকা হয়, তবে সম্মিলিত অতিরিক্ত বার্ষিক নিট আয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ৩৫০–৫০০ কোটি টাকা। এটি কেবল একটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির গাণিতিক হিসাব—কোনও নিশ্চয়তা বা ইতিমধ্যে প্রমাণিত রিটার্ন নয়। আয়ের সঙ্গে জল-উৎপাদনশীলতা, ঋণের বোঝা, খাদ্য ও পুষ্টি, নারীর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, শ্রমের সময় এবং সম্পদের দীর্ঘস্থায়িত্বও মাপতে হবে।
সরকারি অর্থের ব্যবহারেও একই সতর্কতা চাই। প্রস্তাবিত ১,৮৫০ কোটি টাকার প্রতিটি অংশ—সেচকাঠামো, প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল পরিষেবা, বাজার অবকাঠামো, কর্মী এবং রক্ষণাবেক্ষণ—আলাদা করে হিসাব করতে হবে। অন্য প্রকল্পের অর্থ একই সঙ্গে দুবার দেখানো চলবে না। শুরুতে সীমিত কয়েকটি উপযুক্ত ক্লাস্টারে পরীক্ষামূলক কাজ, তার আগে নির্ভরযোগ্য প্রাথমিক সমীক্ষা, সম্ভব হলে তুলনামূলক এলাকার তথ্য, ছয় মাস অন্তর প্রকাশ্য অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং স্বাধীন মূল্যায়ন থাকা দরকার। সুফল যাচাই না করে রাজ্যজুড়ে বিস্তার করলে ব্যয় হবে, কিন্তু শেখা হবে না।
মহারাষ্ট্রের নতুন আইন, উমেদ-এর জীবিকাভিত্তিক কৃষি ক্লাস্টার এবং বিশ্বব্যাঙ্ক-সমর্থিত জলবায়ু-সহনশীল কৃষি প্রকল্প থেকে পশ্চিমবঙ্গ বাস্তব শিক্ষা নিতে পারে। নভেম্বর ২০২৫-এ বিশ্বব্যাঙ্ক মহারাষ্ট্রের ‘পোকরা’ দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য ৪৯ কোটি মার্কিন ডলারের অর্থায়ন ঘোষণা করেছে; প্রকল্পে ২০ লক্ষের বেশি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক, তাঁদের মধ্যে প্রায় ২.৯ লক্ষ নারীকে পৌঁছনোর এবং আয় ৩০ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। এগুলি ভবিষ্যৎ প্রকল্পলক্ষ্য, অর্জিত ফল নয়। পশ্চিমবঙ্গের জন্য মূল শিক্ষা কোনও একটি রাজ্যের অনুকরণ নয়; নারী কৃষকের স্বীকৃতি, জল, প্রযুক্তি, সংগঠন ও বাজারকে একই ফলাফলের কাঠামোয় আনা।
রাজ্য সরকারের কৃষি, জলসম্পদ অনুসন্ধান ও উন্নয়ন, পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন, আনন্দধারা, অর্থদপ্তর, নারী কৃষক এবং স্বাধীন জল ও বাজার বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি ছোট প্রযুক্তিগত দল অন্নদা যাচাই করতে পারে। বিশ্বব্যাঙ্ক, ইফাড, ইউএনডিপি এবং কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ উন্নয়নে অভিজ্ঞ সংস্থাগুলির সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হতে পারে, তবে আগাম কোনও অর্থায়ন বা অংশীদারত্ব ধরে নেওয়া সঙ্গত নয়। ডেভেলপমেন্ট কানেক্টস প্রযোজ্য সরকারি বিধি মেনে জ্ঞান, জলসম্পদ পরিকল্পনা, তথ্যব্যবস্থা, মাঠপর্যায়ের শেখা ও পর্যবেক্ষণে সহায়ক ভূমিকা নিতে আগ্রহী। সিদ্ধান্ত ও দায়িত্ব থাকবে রাজ্যের।
বাংলার দরকার আর একটি ভর্তুকির নাম নয়। দরকার এমন এক নারী কৃষক, যাঁর কাজ সরকারি নথিতে স্বীকৃত, যাঁর জল পাওয়ার অধিকার বাস্তবে কার্যকর, যিনি সমিতির সিদ্ধান্তে অংশ নেন, প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে পারেন এবং ফসল বিক্রির পরে নিজের প্রকৃত আয় বুঝতে পারেন। মর্যাদার প্রশ্নকে উৎপাদনের অর্থনীতি থেকে আলাদা করা যায় না। যথাযথ পরীক্ষা, সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে গড়ে উঠলে ‘অন্নদা’ বাংলার নারী কৃষকের নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার একটি বাস্তব পথ হতে পারে।
তথ্য যাচাই: ১২ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত। অন্নদার লক্ষ্য ও সম্ভাব্য ফল সরকারি অনুমোদন বা অর্জিত সাফল্য নয়।
তথ্যসূত্র: Maharashtra Government Gazette, 22 July 2026. Maharashtra Women Farmers Empowerment Act, 2026 (Act XLVI of 2026). https://prsindia.org/files/bills_acts/acts_states/maharashtra/2026/Act46of2026MH.pdf | Loksatta, 7–8 October 2026. Woman Farmer Certificate applications and issuance; figures attributed to Maharashtra Agriculture Minister. https://www.loksatta.com/mumbai/mahila-shetkari-pramanpatra-registration-stalled-due-to-code-of-conduct-css-98-6178670/ | Department of Agriculture, Government of West Bengal. Farm families, holdings and cropping intensity. https://agriculture.wb.gov.in/ | WBADMIP Phase II Project Implementation Plan, June 2024, p. 4. Regional single-cropping data. https://wbadmip.wb.gov.in/documents/PhaseII/PIP_June_2024.pdf | WBADMIP official programme history. Phase I irrigation potential and share of women beneficiaries. https://wbadmip.wb.gov.in/about | Anandadhara, WBSRLM project dashboard. Women farmers and community cadres, website observed October 2026. https://anandadhara.wb.gov.in/project_dashboard | Maharashtra UMED / MSRLM, Annual Action Plan 2025–26, p. 59. Approved and proposed Integrated Farming Clusters. https://umed.in/documents/AAP_2025_26.pdf | World Bank, 25 November 2025. PoCRA Phase II approval, intended reach and income objective. https://www.worldbank.org/en/news/press-release/2025/11/25/india-world-bank-approves-two-projects-to-improve-learning-outcomes-and-increase-farmers-incomes-using-digital-solutions | Development Connects, ANNADA: West Bengal Women Farmers’ Water Security, Digital Agriculture & Integrated Value Chain Mission. Trilingual Concept, September 2026; original programme targets. Internal proposal, Kallol Saha / Development Connects



Comments